সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:২০ অপরাহ্ন

নোটিশ :
✆ন্যাশনাল কল সেন্টার:৩৩৩| স্বাস্থ্য বাতায়ন:১৬২৬৩|আইইডিসিআর:১০৬৬৫|বিশেষজ্ঞ হেলথ লাইন:০৯৬১১৬৭৭৭৭৭
সংবাদ শিরোনাম
২৫ নং রামপুর ওয়ার্ডে মরহুম ফজলুল হক সর্দারের বাড়িতে ফাতেহায়ে ইয়াজদাহম পালিত চলতি বছরে ইউপি নির্বাচন হচ্ছে না : প্রাধান্য দিতে হচ্ছে শিক্ষা ব্যবস্থা ও রমজানকে ২৫ নং রামপুর ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে সমসামিক বিষয় নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত স্থানীয় নির্বাচন দলীয় নয়, সম্পূর্ণ ব্যক্তিভিত্তিক : ডা,জাহেদ উর রহমান নতুন পাড়া যুব সমাজের উদ্যোগে ঈদে মিলাদুন্নবী (স.) উপলক্ষে নূরানি মিলাদ মাহফিল ২৫ নং রামপুর ওয়ার্ড বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা অসুস্থ হোসেন আহম্মদ ভোলাকে দেখতে গেলেন বিএনপি’র নেতৃবৃন্দ সড়ক দুর্ঘটনায় আহত বিএনপি নেতাকে দেখতে গেলেন ২৫ নং রামপুর ওয়ার্ডের নেতৃবৃন্দরা বোয়ালখালীর আল-ফালাহ মসজিদ মাঠে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপিত ঝর্ণাপাড়া নবী চৌধুরীর রোড মহল্লা উন্নয়ন কমিটির গৌরবময় এক বছর :বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে আগামীর পথ চলা ঝর্ণাপাড়া মহল্লার অভ্যন্তরীণ রাস্তায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে মহল্লা কমিটির উদ্যোগ

আগামী ৭ বছরের মধ্যে কালুরঘাট নতুন সেতু নির্মাণ সম্ভব নয় :মেরামতের জন্য টেন্ডার

ফেইসবুকে নিউজটি শেয়ার করুন...

এস এম ইরফান নাবিল :
জরাজীর্ণ কালুরঘাট সেতু দিয়ে বর্তমানে ঘণ্টায় ৭৫ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলাচলের উপযোগী করে দিতে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বুয়েটকে দায়িত্ব দিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। সম্প্রতি বুয়েটের প্রতিনিধি দল কালুরঘাট সেতু পরিদর্শনের পর সেতুর ত্রুটিগুলো চিহ্নিত করে একটি প্রতিবেদন দিয়েছিল রেলওয়েকে। ওই সময়ে বুয়েট থেকে বলা হয়েছিল কক্সবাজারগামী ট্রেন চলাচলের উপযোগী করতে কালুরঘাট পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে তাদের দিতে হবে ১২ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। বুয়েট প্রতিনিধি দলের সেই প্রস্তাব মেনেই কালুরঘাট সেতু উচ্চ গতির ট্রেন চলাচল উপযোগী করতে শিগগিরই টেন্ডার আহ্বানে যাচ্ছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (সেতু) আহসান জাবির বলেন, ‘বুয়েটের পরামর্শক দল যে ডিমান্ড দিয়েছিল সেটা আপাতত ফাইনাল হয়েছে। সেতু সংস্কারে শিগগিরই সাড়ে ১২ কোটি ৬৫ লাখ টাকায় টেন্ডার আহ্বান করবো আমরা। টেন্ডার আহ্বানের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। শিগগিরই টেন্ডার আহ্বান করা হবে।’
এর আগে রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগের আমন্ত্রণ পেয়ে গত ৯ অক্টোবর বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও পর্যবেক্ষক দলের প্রধান ড. এ এফ এম সাইফুল আমিন, অধ্যাপক ড. খান মাহমুদ আমানত ও ড. আব্দুল জব্বার খান কালুরঘাট সেতু পরিদর্শন করেন। পরে গত ৪ ডিসেম্বর রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (সেতু) আহসান জাবিরের কাছে পরিদর্শনের প্রতিবেদন জমা দেন। সেখানে বুয়েটের বিশেষজ্ঞ দল বলেছেন, আগামী ৭ বছরের মধ্যে যেহেতু নতুন সেতু নির্মাণ সম্ভব নয় তাই পুরনো এই সেতু দিয়ে কক্সবাজারের ট্রেন নিতে হলে সেতুটিকে সেই উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। এজন্য দ্রুত সময়ের মধ্যে সেতুটি সংস্কারের জন্য ১৯টি প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। তার জন্য সম্ভাব্যতা যাচাই করতে হবে।
মূলত এই সেতুর ওপর দিয়ে আদতে নতুন ট্রেন চালানো যাবে কিনা, সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য কী কী করতে হবে তা তুলে ধরা হয় এসব প্রস্তাবনায়। সেখানে উচ্চতর এক্সেল লোড (৭৫ কি.মি) মিটারগেজ ট্রেন চালিয়ে পরীক্ষা করা, পথচারী এবং সাইকেল চালানোর জন্য আলাদা আলাদা পথ দেওয়ার সম্ভাবনা যাচাই করা, সেতুর বর্তমান অবস্থা মূল্যায়ন করার জন্য একটি ডিজিটাল টপোগ্রাফিক জরিপ পরিচালনা করা, ফাউন্ডেশন ঠিক আছে কিনা, তার জন্য নদীর তলদেশ পরীক্ষা করা, সেতুর অবকাঠামোগত ভিত্তির অবস্থা এবং স্কোয়ারিং পরিস্থিতি মূল্যায়ন করার জন্য উপমৃত্তিকা ডেটা বিশে­ষণ করা, সড়কে পথচারী, পরিবহন এবং রেল পরিচালনার লক্ষে প্রস্থ বাড়ানোর বিষয়টিও খতিয়ে দেখা, সেতুর অবকাঠামো শক্তিশালীকরনের বিষয়টি পরীক্ষা করাসহ ১৯টি কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।
এছাড়া বুয়েট প্রতিনিধি দল পরিদর্শনের সময় জানালিহাট অংশে অ্যাপ্রোচ রোডের সুরক্ষা দেয়ালে ফাটল খুঁজে পেয়েছে। তাছাড়া আরও বড় ধরনের ৬টি ত্রুটি পেয়েছে দলটি। পর্যবেক্ষক দলের চিহ্নিত করা বড় ধরনের ত্রুটিগুলো হলো—সেতুর ১ ও ১৫ নম্বর পিয়ার (এক ধরনের কাঠামো যা মাটির নিচে বা জলের মধ্যে প্রসারিত থাকে) ইটের গাঁথুনিতে তৈরি, তাই জাহাজ চলাচলের সময় সংঘর্ষ হলে পিয়ারগুলো ভেঙে যেতে পারে। এছাড়া সেতুর গার্ডার, ডেক, অ্যাঙ্গেল, গ্যাসেট পে­ট, রিভেট এবং অন্যান্য অংশে প্রচুর পরিমাণে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে। তাই সেতুটিতে ভারবহন ক্ষমতা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। সেতুর ওপরের অংশের অ্যাপ্রোচ (সেতুর সঙ্গে সংযোগ সড়কটি) লাইনচ্যুত হওয়ার লক্ষণ দেখতে পেয়েছেন পর্যবেক্ষকরা। এছাড়া সেতুতে গার্ডারের ভারবহনকারী ইস্পাতগুলো অনেকাংশে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেতুর দুই পাশের কাঠের পাটাতন ও লোহার বেষ্টনীর ঠিকঠাকমতো আছে কিনা, তা পরীক্ষা দরকার। কারণ এসব যন্ত্রাংশের কাঠামো বেহাল অবস্থায় দেখেছেন বলে জানান পর্যবেক্ষকরা। তবে সেতুর ফাউন্ডেশনে কোনো ত্রুটি পায়নি বলে জানিয়েছে পর্যবেক্ষক দলটি।
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প দোহাজারী-ঘুমধুম রেল লাইন নির্মাণের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে ৬২ শতাংশের বেশি। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী ২০২২ সালেই ট্রেনে চড়ে কক্সবাজারে যাওয়ার আশা দেখাচ্ছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। তবে চট্টগ্রাম থেকে কক্সাবাজার যেতে হলে পাড়ি দিতে হবে কালুরঘাট সেতু।
রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগ বলছে, পুরানো কালুরঘাট সেতু ১২ টন পর্যন্ত লোড নেওয়ার সক্ষমতা আছে। কিন্তু নতুন রুটে ট্রেন চলাচল শুরু হলে তার সর্বোচ্চ লোড ১২ থেকে ১৫ টন পর্যন্ত হতে পারে। যেখানে মিটারগেজ ট্রেনে চলবে ধীরগতিতে। পুরানো এ সেতুতে ব্রডগেজ ট্রেন চলানো সম্ভব নয়। এর উপর আবার পুরানো সেতুতে বারবার জোড়াতালি পড়েছে। ফলে ১২ টন লোড নেওয়ার যে সক্ষমতার কথা বলা হচ্ছে তা নিয়েও সংশয় আছে। তাছাড়া এ সেতুর উপর দিয়ে দিনভর ভারী যান চলাচল করছে। যার ফলে পুরানো সেতুটির দুর্বলতা বাড়ছে। অন্যদিকে ২০২২ সালের মধ্যেই কর্ণফুলী নদী পার হয়ে কক্সাবাজার যাবে ট্রেন। সব মিলিয়ে এই পুরান সেতুকেই ট্রেন চলাচলের উপযুক্ত করাই রেলওয়ের প্রধান কাজ। সেকারণে বুয়েটের পরামর্শক দলই এখন শেষ ভরসা রেলওয়ের।
১৯৩১ সালে কালুরঘাট সেতুটি নির্মিত হয়। উত্তর-দক্ষিণ চট্টগ্রামের বোয়ালখালী অংশে প্রায় শতাধিক শিল্প কারখানার ভারী যানবাহন এই সেতুর উপর দিয়ে পণ্য পরিবহন করে। অথচ মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পর রেলওয়ে সেতুটিকে ২০০১ সালে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে। পরবর্তীতে ২০১১ সালে চট্টগ্রাম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) একদল গবেষক এটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে। এরপর ভারী যান এই সেতুর উপর দিয়ে চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়। কিন্তু কোন নির্দেশনা না মেনে চলছে এসব ভারী যান।
এত চাপ আর সইতে না পারে যেন বার বার মুচড়ে পড়ছে সেতু! প্রায় প্রতি বছরই কোন না কোন সংস্কার কাজ করতে হচ্ছে এই সেতুর উপর দিয়ে। যা সেতুর উপর নির্ভশীল লাখ লাখ মানুষের জন্য ডেকে আনছে মারাত্মক ভোগান্তি। সেই সাথে রেলওয়ের ব্যয় হচ্ছে বড় অঙ্কের অর্থ। এ সেতু বড় ধরনের সংস্কার কাজ হয় ২০০৪ সালে। সেইবার ব্যয় হয়েছিল প্রায় ১০ কোটি টাকা। এ সময় ১১ মাস সেতুর ওপর যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। এরপর ২০১২ সালেও আরও একবার সংস্কার কাজ হয়। পরে জাহাজের ধাক্কায় একটি স্প্যান সরে যায়। ওই সময় দুদিন বন্ধ রেখে তা ৫০ লাখ টাকায় মেরামত করা হয়। এর আগে একাধিক দফায় সেতুর সংস্কার করা হয়। ২০২০ সালে এই সেতুর উপর দিয়ে রেল লাইনের সংস্কার কাজ করা হয়। ব্যয় ধরা হয়েছিল ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা।
এ সেতু ব্যবহার করেই ঢাকা-কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটের ভারী ট্রেন পরিচালনার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সেতুটি মেরামত করে এ ট্রেন চলাচলের উপযোগী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলওয়ে। বর্তমানে এ সেতু দিয়ে ১১ দশমিক ৯৬ টন এক্সেল লোড বিশিষ্ট ছোট লোকোমোটিভ বা হালকা ওজনের কোচ চলাচল করে। যেহেতু এ পথে নতুন রেলপথ এখনো নির্মাণ হয়নি, তাই সেতুটির গার্ডার ও অন্যান্য অবকাঠামো পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণ করে প্রতিটি এক্সেল লোডে ১৫ টন ওজনের ইঞ্জিন ব্যবহার করতে চায় রেলওয়ে।

ফেইসবুকে নিউজটি শেয়ার করুন...

আপনার মন্তব্য লিখুন

Please Share This Post in Your Social Media

Archive

© All rights reserved © 2021 Dainiksomor.net
Design & Developed BY N Host BD